দুর্যোগ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় সুযোগ দেওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচি ঘোষণার আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। পরে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়ে তারা সড়ক থেকে সরে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবিগুলো শুধু রাজধানীর শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দেশের সব কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে উত্থাপন করা হয়েছে। চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। তাই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায়ও তাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। দুপুরের দিকে নীলক্ষেত থেকে টিএসসি সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সেখান থেকে সরে গেলেও বিকেলে আবারও ওই এলাকায় অবস্থান নেন তারা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনের সূচনা হয় সোমবার (১৩ জুলাই)। এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কলেজ নেটওয়ার্ক’ নামের একটি ফেসবুক পেজে কর্মসূচির প্রচারপত্র প্রকাশ করা হয়। পরে বিভিন্ন কলেজভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে তা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।