বেতন বৈষম্য নিরসন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সারাদেশের মতো লালমনিরহাটেও অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের শাখা ডাকঘর (ইডি) কর্মচারীরা। গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতির ফলে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় ডাকসেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যৌথ ব্যানারে আন্দোলনরত কর্মচারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশে বর্তমানে ৯ হাজার ৯৭৪টি ডাকঘরের মধ্যে ৮ হাজার ৫৩৪টি শাখা (ইডি) ডাকঘর। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৩ হাজার ২১ জন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত স্বল্প বেতনে ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তাদের মাসিক বেতন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ৮৪১ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত আট বছরে তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়া সরকারি অন্যান্য কর্মচারীদের মতো তারা উৎসব ভাতা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পান না। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও বিভাগীয় কর্মচারীদের তুলনায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি মিজানুর আহমেদ বলেন, “দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে আমরা অবহেলার শিকার। গত দুই বছরে স্মারকলিপি, সভা-সমাবেশ ও অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেছি। আমাদের দুই দফা দাবি—বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি—বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।”
এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হোসাইন মো. সেলিম রেজা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম সারওয়ার বুলবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, আশরাফুল আলমসহ সংগঠনের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনকারীরা দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।