সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় নদীগুলোতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি বালু উত্তোলন কার্গো জব্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির একটি টহল দল কপোতাক্ষ নদে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি কার্গো জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকার খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করে আসছে। দিন-রাত নির্বিচারে নদী থেকে বালু তোলার কারণে নদী তীরবর্তী এলাকা ও বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়রা আরও জানান, গ্রাম রক্ষা বাঁধসংলগ্ন নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে শুধু নদী নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন জানান, খোলপেটুয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় নীলডুমুর বিজিবি ও বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের সহায়তায় দুইজনকে আটক করা হয়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় তাদের বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানায় নেওয়া হয়।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫(১) ধারার আওতায় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও বলেন, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।