রাজস্থলীতে মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটা জোর করে দখল উল্টা সি আর মামলা

রিয়াজ উদ্দিন রানা। প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর গ্রামে বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। দখলের ভিডিও প্রমাণ থাকার দাবি করে উল্টো ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নেয়ামত আলীর স্ত্রী মোছা. রেজিয়া বেগম।

রেজিয়া বেগমের অভিযোগ, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে একটি পক্ষ তাদের বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

তিনি অভিযোগ করেন, দখলের ঘটনার পর উল্টো তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিআর মামলা নং-৩৯০/২৬-এ তাদের পরিবারের ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রেজিয়া বেগমের দাবি, ওই জায়গা ১৯৮৩ সালে সরকারিভাবে তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০২০ সালে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে তারা বসবাস করে আসছেন। তার অভিযোগ, ৪ জুনের ঘটনায় প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জায়গা দখল করে ছোট ছোট ঘর নির্মাণ করে। এ ঘটনায় চন্দ্রঘোনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নম্বর ০২/২৬।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যেখানে ৪ জুন ২০২৬ তারিখে দখলের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে ‘এক মাস আগের ঘর’ থাকার অভিযোগ কীভাবে সত্য হতে পারে? আর ঘর না থাকলে ঘরের মালামাল চুরির অভিযোগই বা কীভাবে আসে?” এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের আহাম্মদ জানান, মামলার বাদী আদালতের মাধ্যমে মামলা করেছেন। তদন্ত শেষে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে পাঠানো হবে। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তদন্তে যদি কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার আসামি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমাদের বাড়ি ও সম্পদ দখল করা হয়েছে। আমরা থানার আশ্রয় নিয়েছি। এরপর আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেই।” তিনি আরও বলেন, তারা আদালত ও প্রশাসনের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ৯৯৯ কলের তথ্যসহ সব বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।