রক্ত দিয়ে মানবতার নজির গড়লেন নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম

নাজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি, আবু সাঈদ শেখ প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় মানবিক কাজ আর নেই—এই বার্তা বাস্তবে তুলে ধরে এক মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে প্রশংসিত হয়েছেন পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের মো. আসলাম শেখ (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে তার জন্য এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন হয়। পরে রোগীর স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে রক্তের সন্ধান করতে থাকেন।

বিষয়টি নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি দাপ্তরিক ব্যস্ততার মধ্যেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। তার দেওয়া রক্ত দ্রুত রোগীর চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

রোগীর বড় ভাই ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাইয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম নিজেই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ আমাদের পরিবারের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “ওসির মতো মানবিক মানুষ সমাজের অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

ওসি তরিকুল ইসলামের এই মানবিক কর্মকাণ্ডে নাজিরপুরজুড়ে প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোও একজন জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তার অন্যতম দায়িত্ব।

স্থানীয়রা জানান, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং তরুণদের মানবিক কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

জনসেবার দায়িত্বকে পেশাগত সীমার বাইরে নিয়ে গিয়ে মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত ওসি মো. তরিকুল ইসলাম স্থাপন করেছেন, তা একজন দায়িত্বশীল, জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।