দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কয়েকটি উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
রোববার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। টানা বর্ষণে অফিসগামী মানুষ, শ্রমজীবী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে পটুয়াখালীতে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকতে পারে।