রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন, পতাকা ওড়ানো এবং জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে রোববার (১২ জুলাই) রাবিতে দেখা গেছে ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা শুরুর আগেই জড়ো হন শত শত শিক্ষার্থী। নীল-সাদা জার্সি, হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা এবং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসায় পুরো মাঠ পরিণত হয় এক বিশাল ফুটবল গ্যালারিতে। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা শুধু খেলা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দল ভিন্ন হলেও ফুটবলের আনন্দে সবাই একসঙ্গে মেতে উঠেছেন। বৃষ্টির মধ্যেও ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যে ফুটবলপ্রেমীদের সেই উচ্ছ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক আব্দুল্লাহ আল মাহিম বলেন, “প্রিয় দলের সমর্থনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে এসেছি। মেসিবাহিনী আমাদের হতাশ করেনি। আজকের জয় আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আশা করছি, এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখবে।”
আর্জেন্টিনা সমর্থক ও অন্যতম সংগঠক মো. সজিবুর রহমান বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই ক্যাম্পাসে অন্যরকম এক আবহ তৈরি হয়। আর্জেন্টিনা সবসময় চাপের মুহূর্তে ভালো খেলে। আমরা আশাবাদী, দল এবারও কোটি ভক্তের প্রত্যাশা পূরণ করবে।” শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা জায়ান্ট স্ক্রিনে রাতভর শত শত শিক্ষার্থী একসঙ্গে খেলা উপভোগ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরেও এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়।
খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের উল্লাসে পুরো ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। গোলের সময় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের একঘেয়ে একাডেমিক জীবনে এনে দিয়েছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, জার্সির রং কিংবা পছন্দের দল আলাদা হলেও বিশ্বকাপের আনন্দ সবাইকে এক সুতোয় বেঁধেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন চলছে সেই ফুটবল উৎসবের রেশ।