টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের ১২টি জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে আরও ১৫ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রোববার (১২ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পৃথক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার রাত ১টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও নতুন করে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, চলমান বন্যায় এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।