রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—এই চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান উন্নয়নে আরও বেশি মোবাইল টাওয়ার স্থাপন প্রয়োজন, যার জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ দরকার।
তিনি জানান, টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “টেলিটককে বাজারে রাখতেই হবে। এটি সরকারি মালিকানাতেই থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।”
এ সময় তিনি জানান, মোবাইল ইন্টারনেটের ৭ দিন বা ১৫ দিনের প্যাকেজের অব্যবহৃত ডেটার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরগুলোর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে। তবে অপারেটররা তাদের ব্যবসায়িক নীতির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দিয়েছে। কলড্রপ সমস্যা নিয়েও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে চাপ অব্যাহত থাকবে।
ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে এবং রেমিট্যান্স প্রেরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল সেন্টারে ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন এলাকাগুলোতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে টেলিটকসহ অন্যান্য অপারেটরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকঘর সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। এর অধিকাংশই জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় একসঙ্গে সব সংস্কার করা সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং ও ইন্টারনেটভিত্তিক পেশায় দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।
৫জি সেবা সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিনিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ৫জি চালুর জন্য ২.৩ গিগাহার্জ ও ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, দেশব্যাপী ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।