কাতা‌রের সাবেক আমির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১২ জুলাই) কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে লেখা এক শোকবার্তায় তিনি কাতারের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং তার নিজের পক্ষ থেকে কাতারের রাজপরিবার, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্বে কাতার একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী সম্মানিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে। পারস্পরিক বিশ্বাস, অভিন্ন মূল্যবোধ ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে এই বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়েছে। শোকবার্তায় তিনি বলেন, এই শোকের মুহূর্তে তার চিন্তা ও প্রার্থনা কাতারের বর্তমান আমির, রাজপরিবার এবং দেশটির জনগণের সঙ্গে রয়েছে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।

এর আগে রোববার সকালে কাতারের সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৮ বছর কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে কাতার জ্বালানি, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করে।

২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এটি ছিল একটি বিরল ও আলোচিত ঘটনা। তার নেতৃত্বে কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক সংবাদ জগতেও কাতারের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।