অভাবকে হার মানিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পেল চকরিয়ার মেধাবী তানহা

চকরিয়া প্রতিনিধি, আবু সালাম প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

দারিদ্র্য ও সীমাবদ্ধতাকে জয় করে প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করেছে চকরিয়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী হুরে জান্নাত তানহা। কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্যেও বাবা-মায়ের অদম্য প্রচেষ্টা এবং নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।

তানহার বাবা সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ফার্নিচারের ফুলকাটার (কারুকাজ) মিস্ত্রি। সীমিত আয়ের মধ্যেও স্ত্রী আমেনা আক্তার ডেজীকে সঙ্গে নিয়ে চার সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন। সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল হিসেবেই এসেছে তানহার এই সাফল্য।

হুরে জান্নাত তানহা চকরিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে বর্তমানে চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোটবেলা থেকেই সে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে পরিচিত।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ভাই-বোনের মধ্যে তানহার বড় ভাই বাপ্পি চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তানহার পরের দুই ছোট বোনও নিয়মিত পড়াশোনা করছে। সংসারে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও সন্তানদের লেখাপড়ায় কোনো ঘাটতি রাখতে চান না সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফার্নিচারের কারুকাজ করে সংসার চালাচ্ছেন সাইফুল ইসলাম। আর্থিক সংকট থাকলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনো পিছপা হননি। পরিবারের ত্যাগ ও তানহার কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তার বৃত্তি অর্জনের খবরে এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

তানহার বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, “অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছি। মেয়ের এই অর্জন আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্টকে সার্থক করেছে। সবার দোয়া চাই, যেন সে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে পারে।”

শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রয়োজনীয় উৎসাহ ও সহযোগিতা পেলে মেধাবী তানহা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে। তার এই অর্জন আর্থিক সংকটে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।