বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতায় দলকে ইতিহাসের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই এখন সব কৌতূহল—ইংল্যান্ড কি পারবে হালান্ডকে থামাতে?
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে এরই মধ্যে চমক দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে ইরাক, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় তারা। এরপর শক্তিশালী পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় নরওয়ে।
এই অসাধারণ সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর আর্লিং হালান্ড। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে সাত গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় অন্যতম শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। তার গোলের ধারাবাহিকতাই নরওয়ের স্বপ্নযাত্রার বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকে অনেকেই দেখছেন হালান্ড ও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবে। তবে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টালে সোলবাকেন এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।
তিনি বলেন, “এটি ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের ম্যাচ, শুধু কেইন ও হালান্ডের লড়াই নয়। কেইন ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়, আর হালান্ড আমাদের। তবে ফুটবল একটি দলীয় খেলা। শুধু দুই খেলোয়াড়কে ঘিরে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয় না।” সোলবাকেন আরও বলেন, হালান্ড দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাকে সফল হতে সতীর্থদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ ফুটবলে জয় আসে পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।
বিশ্বকাপে এটি নরওয়ের তৃতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠবে তারা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও শিরোপার স্বপ্ন পূরণে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে মরিয়া।
সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইয়ে সবার নজর থাকবে হালান্ডের দিকে। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তাকে আটকে রাখতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। আর হালান্ড যদি নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপে আরও একটি চমক দেখার অপেক্ষায় থাকবে ফুটবল বিশ্ব।