সন্ধ্যা নদীতে স্বপ্নের সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে সেতু সচিব

নেছারাবাদ প্রতিনিধি, ফরিদ আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সন্ধ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কাউখালী থেকে স্পিডবোটযোগে নদীপথে সফর শুরু করেন সচিব ও তাঁর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে নেছারাবাদ উপজেলার নাপিতখালী ও সোহাগদল এলাকার সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী ফেরিঘাট এবং সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তারা।

এ সময় নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সেতু নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে নদীর নাব্যতা, যানবাহনের চাপ, সেতুর কারিগরি সম্ভাবনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সন্ধ্যা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে নেছারাবাদ, কাউখালী, নাজিরপুর ও বানারীপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে। কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তারা।

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার বলেন, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর নির্বাচনের আগেই সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উপজেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ বলেন, নেছারাবাদ পিরোজপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ কারণেই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী আট মাসের মধ্যে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে। এরপর সেতুর দৈর্ঘ্য, ব্যয় ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করে নির্মাণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, বড় সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপনের পর অনুমোদন সাপেক্ষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সন্ধ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু নেছারাবাদের নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।