চকরিয়ায় বন্যাদুর্গত অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

চকরিয়া প্রতিনিধি, আবু সালাম প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব, চকরিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম, পৌরসভার সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এ সময় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুর্যোগের এই সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ত্রাণ বিতরণকালে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদেরও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।

চকরিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দুর্যোগের সময় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মানবসেবাই আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, সরকার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনছে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত অতিথিরা বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।