সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড।

ব্যুরো চট্রগ্রাম, তুহিন রহমান। প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বহুল আলোচিত শিশু জান্নাতুল নেসা (ইরা) হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দকৃত আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।

আলোচিত এ মামলায় অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রায় ঘোষণাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলার রায় ঘোষণার পর নিহত শিশু ইরার পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। আদালতের এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন, এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিশু হত্যা সমাজের জন্য অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। দ্রুত বিচার শেষে রায় ঘোষণার ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডে শিশু জান্নাতুল নেসা (ইরা)-কে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী বাবু শেখের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত বাবু শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ আইন অনুযায়ী বহাল থাকবে।