মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১৫ গ্রাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। জেলার প্রধান নদী মনুর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। ধলই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশপাশের প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার রাতের আঁধারে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বন্যার পানিতে বসতঘর, রান্নাঘর, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় শ্রীপুর, গোলের হাওর ও ভান্ডারীগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা সড়ক ও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে শুক্রবার মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পরে উজিরপুর এলাকায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।