চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ সহায়তা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ করছেন।

আইএসপিআর জানায়, ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার, ত্রাণ, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।