নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদক মামলায় সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই সাক্ষীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বারগাঁ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন হাজী বাড়ির মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়েজ আহমেদ (৩০) একটি মাদক মামলার সাক্ষী। মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি ওই মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে সিএনজি চালক ফয়েজ আহমেদ মালিকের গ্যারেজে গাড়ি রেখে বাড়ি ফেরার পথে হোসেনপুর গ্রামের রাসেল (২৪), সাব্বির (২২), মো. রাসেল (২৩) এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জন তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ফয়েজ আহমেদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যার চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়েজ আহমেদকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, হামলায় তার কিডনিতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন।
স্বজনদের অভিযোগ, মাদক মামলায় সাক্ষী হওয়ায় প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ফয়েজ আহমেদ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।