শ্যামনগরে আড়াই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ, পিআইওর অপসারণ দাবি স্থানীয়দের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ও নূরনগর ইউনিয়নের রামজীবনপুর এলাকায় ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দুটি সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি অনুপযোগী নির্মাণসামগ্রী অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নূরনগর ইউনিয়নের হেরিনবোন সড়ক এবং রমজাননগর ইউনিয়নের অপর একটি সড়ক নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিডিউল অনুযায়ী বালু ব্যবহার না করা এবং রাস্তার ভিত্তি প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন তারা।

তাদের দাবি, নূরনগর এলাকার সড়কে বেড না কেটে কাদামাটির ওপর বালু দেওয়া হচ্ছে এবং ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে রমজাননগরের সড়কেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার দুই পাশে পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিরাজ হোসেন খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা পিআইওর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দোলনা সরদারসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিরাজ হোসেন খান বলেন, “রাস্তায় কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে তা অপসারণ করা হবে।”

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি রাস্তা দুটি পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।