মানিকগঞ্জের সিংগাইরে কিশোর অটোরিকশাচালক সাকিবুল ইসলাম (১৫-১৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আসাদুজ্জামান (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পিবিআই মানিকগঞ্জের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামানের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামে। তিনি বর্তমানে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন অটোরিকশাচালক সাকিবুল ইসলাম। পরদিন সিংগাইর উপজেলার একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান হেমায়েতপুর থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বৃষ্টির মধ্যে তিনি সাকিবের অটোরিকশায় ওঠেন। ভাঙা সড়কে চলাচল নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে গিয়ে আসাদুজ্জামান সাকিবকে মারধর করেন এবং তার মুখ কাদায় চেপে ধরে ঘাড়ে চাপ দিলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।
হত্যার পর অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার একটি স্যান্ডেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের অটোরিকশাটি সিংগাইর থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।
পিবিআই জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান।