বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়ার প্রত্যাশা পাকিস্তানের হাইকমিশনারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এ প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর আত্মকর্মসংস্থান, কৃষি, ডেইরি, পোলট্রি, মৎস্য খাত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন অন্যতম।

মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য পাকিস্তানের বাজারে সহজে রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশটির সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আম, কাঁঠাল ও আনারস আমদানির বিষয়েও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাণিজ্য আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার টন পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাইকমিশনার আরও জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাইবার সিকিউরিটি, ন্যানো টেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে গেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একটি দল একাডেমিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে পাকিস্তান সফর করেছে।

ভবিষ্যতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমরান হায়দার।

এ সময় মন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের স্কলারশিপের সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানালে হাইকমিশনার এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।