​লালমনিরহাটে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি, ফারুক সূর্য প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

লালমনিরহাট পৌরসভার তালুক খুটামারা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপককে প্রাণনাশের হুমকি ও বসতবাড়ির প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম প্রামানিক (৬৬)।

গত ১ জুলাই দায়ের করা জিডির নম্বর ৮৬৩। অভিযোগে অধ্যাপক আশরাফুল আলম জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে মো. আব্দুস সাত্তার (৬৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তার বসতবাড়ি ও একটি ছাত্রাবাস রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও তারা দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি অতীতে জমি দাবি করবেন না মর্মে অঙ্গীকারনামাও দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক আশরাফুল আলমের অভিযোগ, সম্প্রতি স্থানীয় কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় আব্দুস সাত্তার পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। গত ১ জুলাই দুপুরে পিংকির মোড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুস সাত্তার তাকে একা পেয়ে বাঁশের লাঠি নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় তার ছেলে মো. জুহায়ের আব্দুল্লাহ, স্ত্রী শামসেআরা বেগম ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন পরিকল্পিতভাবে ছাত্রাবাসের সীমানা প্রাচীরের রড কেটে এবং দেয়ালের পাশে গর্ত খনন করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট অংশের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

অধ্যাপক আশরাফুল আলম বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে তিনি সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।