কুমিল্লার মুরাদনগরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত চাষিদের মাঝে প্রদর্শনী পুকুর পরিচালনার প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)’-এর আওতায় সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতায় ৪টি আরডি (RD) প্রদর্শনী পুকুর এবং ১০টি গৃহস্থালি মৎস্যচাষি পুকুরের জন্য মাছের খাবার, জিওলাইট, চুন, সবজির বীজ, বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ-এর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুমন লাল দেবনাথ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রকল্পের সুবিধাভোগী মৎস্যচাষিরা।
সহায়তা পাওয়া মৎস্যচাষিরা জানান, আধুনিক উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ায় মাছ চাষে উৎপাদন ব্যয় কমবে, উৎপাদন বাড়বে এবং তাদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। তারা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।