ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দেশ কোনটি, কীভাবে পাবেন ভিসা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

ইউরোপে তুলনামূলক কম খরচে বসবাস, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সহজ আবাসন ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ আলবেনিয়া দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পড়াশোনা, রিমোট চাকরি, ব্যবসা কিংবা দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপে বসবাসের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের কাছেও দেশটি এখন একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলবেনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। ইওনিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত আলবেনিয়ান রিভিয়েরার কসামিল, সারান্দা ও ধেরমির মতো সমুদ্রসৈকত স্বচ্ছ নীল পানি ও মনোরম পরিবেশের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অনেক পর্যটকের মতে, গ্রিস বা ইতালির তুলনায় অনেক কম ব্যয়ে একই ধরনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এখানে।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের আলবেনিয়ান আল্পসের থিথ ও ভালবোনা জাতীয় উদ্যান ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের শহর বেরাত ও জিরোকাস্তারের মধ্যযুগীয় স্থাপত্যও পর্যটকদের বিশেষভাবে টানে।

জীবনযাত্রার ব্যয়

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আলবেনিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম। রাজধানী তিরানার কেন্দ্রের বাইরে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া মাসে সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ ইউরোর মধ্যে পাওয়া যায়। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় ৩ থেকে ৭ ইউরোর মধ্যে খাবার পাওয়া সম্ভব। বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও ইউটিলিটিসহ একজন প্রবাসীর মাসিক গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ ইউরো ব্যয় হতে পারে।

বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আলবেনিয়ার ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। স্বল্পমেয়াদি (টাইপ ‘সি’) ভিসার জন্য বৈধ পাসপোর্ট, ছবি, রিটার্ন বিমান টিকিট, আবাসনের প্রমাণ, গত ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং চাকরিজীবীদের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) অথবা ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১৪ থেকে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।

ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ সুবিধা

বিদেশি রিমোট কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আলবেনিয়া ইউনিক পারমিট চালু করেছে। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা প্রথমে এক বছরের অনুমতি পান, যা নবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এজন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মচুক্তি, নির্ধারিত ন্যূনতম আয়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ দাখিল করতে হয়।

নাগরিকত্বের সুযোগ

দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের ক্ষেত্রে প্রথমে টাইপ ‘ডি’ ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে টানা সাত বছর বসবাসের পর বিদেশিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আলবেনিয়ান ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান এবং অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হয়। এছাড়া আলবেনিয়ার নাগরিককে বিয়ে করলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা কমে আসে। দেশটি দ্বৈত নাগরিকত্বেরও অনুমতি দেয়।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা আলবেনিয়া কম জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য সুবিধাজনক নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে ভিসা, অভিবাসন ও আয়ের শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।