পটুয়াখালীর গলাচিপার ১১ জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো নিখোঁজ ছয় জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে মোট ১১ জন জেলে ছিলেন।
ট্রলারডুবির পর পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন। উদ্ধার হওয়া আহত জেলেদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর তারা ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি বয়া ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন—গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের মৃত গেদু হাওলাদারের ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. ইমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম ও মো. আল আমিন এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।
এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলে ও নিখোঁজ ছয় জেলের পরিবারের প্রত্যেককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং শুকনো খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মো. ইজাজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা নিয়মিত কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। উদ্ধার অভিযান চলছে এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আহত জেলেদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে স্বজনরাও পৃথক একটি ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া জেলেদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।