বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের পাঁচ বিভাগের অন্তত ১৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি জানিয়েছেন, দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিব, স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, কোনো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হলে প্রয়োজনে তাদের কেন্দ্রের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার নির্দেশনাও দেওয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, “১৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাসের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। কোনো জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগসহ উজানের ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।