প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়াউদ্দিন রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে। এজন্য তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং শিক্ষকরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন গবেষণা ও উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া শুধু ব্যবসা শুরু করা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা নয়। বরং স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করে। এর ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের বৃদ্ধি, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দ্রুত নগরায়নের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় একক কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।