দিনাজপুরে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি)-এর এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর সদর থানা চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার দাবিতে তাদের সমর্থক ও স্থানীয় একদল লোক থানায় জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর (পুকুরপাড়া) এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সামাদকে অপহরণ এবং ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার অন্যরা হলেন মো. হাসিন ইসরাক মিম, মো. আজমীর হোসেন, মো. সাজিদুল মিনহাজ এবং মো. হৃদয়।
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের সমর্থক এবং স্থানীয় নারী-পুরুষের একটি দল গভীর রাত পর্যন্ত সদর থানা চত্বরে অবস্থান নিয়ে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বাকবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি এবং চাপ সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং আরেকজন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ থানার সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এবং আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হামিদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করেন।
দিনাজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুন্নবী জানান, ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের মো. আব্দুস সামাদকে ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়ন এলাকা থেকে অপহরণ করে অপমান এবং ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তার ছেলে মো. মামুন বাদী হয়ে আরিফ মুনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি সদর থানায় ২৮ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।