দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক, ভারী বৃষ্টিতে আবারও পানিবন্দি চট্টগ্রাম নগরবাসী

চট্টগ্রাম সিনিয়র ব্যুরো চীফ, তুহিন রহমান  প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। অনেক এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এর আগে দাবি করেছিলেন, নিয়মিত খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমের কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ভারী বৃষ্টিতেও বড় ধরনের জলাবদ্ধতা হচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সার্বক্ষণিক তদারকির কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

তবে মঙ্গলবারের ভারী বর্ষণের পর নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে ভিন্ন পরিস্থিতি। নগরীর একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে।

নগরবাসীর অভিযোগ, খাল-নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক এলাকায় এখনো ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও পলি জমে আছে। পাশাপাশি পানি প্রবাহের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না; এর পাশাপাশি খাল পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, আধুনিক ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাতে প্রতি বর্ষায় চট্টগ্রামের মানুষকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে না হয়।