তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু, ৩ বিষয়ে অগ্রাধিকার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে শুরু হওয়া এই দুদিনব্যাপী সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ইউক্রেন সংকট এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ন্যাটোর ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনের পাশাপাশি ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের সঙ্গেও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

ন্যাটো জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করা। ইউরোপীয় নেতারা ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরবেন বলেও জানা গেছে।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে আঙ্কারায় একটি প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামেরও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার কোটি ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৫২ সাল থেকে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক এই সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায়। সম্মেলনের আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তুরস্ককে ন্যাটোর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়া ফ্রান্স ও ইতালির সঙ্গে এসএএমপি/টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে তুরস্কের অংশগ্রহণ পুনর্বহালের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।