তিন দিনে বাড়তে পারে কয়েকটি নদীর পানি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাস স্বাক্ষরিত প্রধান অববাহিকা ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উভয় নদীই এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ দিনে এ অববাহিকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্রথম দুই দিন পানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী তিন দিনে আবার বাড়তে পারে।

গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সব নদীই বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রথম তিন দিন পানি স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী দুই দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় নদীর পানি কমলেও কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। তবে আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট নদী আগামী তিন দিন বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদী সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। পাশাপাশি নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার, ফেনী ও চট্টগ্রামের কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময়ে হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও বাড়তে পারে। ফলে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।