জলোচ্ছ্বাস ও বর্ষায় বারবার প্লাবিত বাঁশখালীর উপকূল, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি

বাঁশখালী প্রতিনিধি, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় বর্ষাকাল, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ঘূর্ণিঝড় এলেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতিবছর জলোচ্ছ্বাস ও নদীর পানিতে প্লাবিত হচ্ছে বাড়িঘর, সড়ক, বাজার এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এতে উপকূলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।

খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, সরল, শেখেরখীল ও ছনুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত বা জোয়ারের পানিতেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। আর ঘূর্ণিঝড়ের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতঘর, ফসলি জমি, মৎস্যঘের এবং বিভিন্ন অবকাঠামো। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এক উপকূলবাসী বলেন, “প্রতিবছরই জোয়ার ও বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখতে পাই না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই আধুনিক ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন এবং উপকূলীয় সুরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ায় উপকূলবাসীর উদ্বেগও বেড়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের আশ্বাস নয়, এবার স্থায়ী সমাধান হিসেবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও সম্পদ সুরক্ষায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করবে।