কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে লাখো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

না ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ঘেরা বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে বিশ্রামে থাকা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্ত্রী নাসিমা আক্তার লিমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত নাসিমা আক্তারের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত জসিম উদ্দিন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। সেখানে এক রাতেই পৃথক তিনটি স্থানে পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

এছাড়া সোমবার (৬ জুলাই) পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। কক্সবাজার শহর, সদর উপজেলার দরিয়ানগর এবং পেকুয়া এলাকায় আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর বিভিন্ন পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষ বসবাস করছেন। টানা বর্ষণের কারণে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে অনেক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।