হাত হারানো সেই নাঈম পেলেন ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ওয়ার্কশপ মালিক অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের কাছে জমা দেন। এর আগে দুই ধাপে আরও ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।

নাঈমের পক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নাঈমের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে তার শিক্ষাব্যয়ের জন্য পরিশোধ করতে হবে। এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকির জন্য মামলাটি আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে।

নাঈমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার পেশায় জুতা ব্যবসায়ী। কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে তারা কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বসবাস করতেন।

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর করোনাকালে পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যে ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় ড্রিল মেশিনে নাঈমের ডান হাত আটকে যায়। পরে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কনুই থেকে ডান হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

ঘটনার পর একই বছরের ডিসেম্বরে নাঈমের বাবা হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদি দুটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরে ওয়ার্কশপ মালিক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলেও আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়। ফলে হাইকোর্টের দেওয়া ক্ষতিপূরণ ও মাসিক ভাতার নির্দেশনা বহাল থাকে।