স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ডে বেহাল অবস্থা, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

নেছারাবাদ প্রতিনিধি, ফরিদ আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ড এখন চরম অবহেলার শিকার হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কর্দমাক্ত চত্বর, ভাঙাচোরা রাস্তা, খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় বাসস্ট্যান্ডটি যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী ছারছীনা এলাকায় প্রায় দেড় যুগ আগে স্বরূপকাঠি পৌরসভা নির্মিত এই বাসস্ট্যান্ডের বড় অংশ এখনো কাঁচা ও ইটের সলিংযুক্ত। পিচঢালা বা আরসিসি ঢালাই না থাকায় স্থানে স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা হাঁটুসমান কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যাত্রীদের ওঠানামা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

প্রতিদিন এ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন রুটে অর্ধশতাধিক বাস চলাচল করলেও যাত্রীসেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। নেই পর্যাপ্ত ছাউনি বা বিশ্রামাগার। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে একটি মাত্র গণশৌচাগার থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে।

বরিশালগামী যাত্রী নাজমা বেগম বলেন, বাসে উঠা-নামার সময় কাদা-পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। মাথার ওপর ছাউনি না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, রোদে কষ্ট পেতে হয়। নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও বেশি দুর্বিষহ।

শ্যামলী পরিবহনের স্থানীয় এক কাউন্টার ম্যানেজার জানান, বর্ষা মৌসুমে বাস চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হয়। কাদার কারণে বাস আটকে যায় এবং যাত্রী ও মালপত্র ওঠানো-নামানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বরূপকাঠি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বাসস্ট্যান্ডের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে জানান, সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে বাসস্ট্যান্ডটির সংস্কার করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি সরেজমিনে বাসস্ট্যান্ডটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।