মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণে অবদান রাখা বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ এবং পরিবেশবান্ধব গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ও অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০ জন কনটেন্ট নির্মাতাকেও সম্মাননা জানানো হয়।
শুক্রবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পলাশ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক নির্মল এস পলাশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট চিকিৎসক নাজিম আল কোরাশী রাফাত। এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোছাব্বির আলী মুন্না এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবুজাফর সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এবারের আয়োজনে ন্যাচারাল অ্যান্ড লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছেন ইউসুফ শাহরিয়ার, মো. আল আমিন ইসলাম, ফাহিম আহমেদ, রোকসানা আফরিন শিমু, তানভীর আহমেদ, শিশির ধর, রাদিয়ান হোসেন এবং মো. শহিদ। এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কমেডি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন দীপ চক্রবর্তী। ফুড অ্যান্ড রেসিপি বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন কাজী ফয়সাল আহমেদ রিয়াদ এবং আদার্স (অন্যান্য) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মো. ফারহান তানভীর ফাহিম।
আয়োজকরা জানান, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রকাশ করা হয়। মনোনীতদের মধ্যে ২ মে বিকেল ৫টা থেকে ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে ১১ জন বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
প্রধান আয়োজক এবং ‘চায়ের জনপদ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. তোফায়েল আহমেদ (পাপ্পু) বলেন, ‘চায়ের জনপদ’ দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের ইতিবাচক সংবাদ, ঐতিহ্য, পর্যটন ও সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক, তথ্যনির্ভর ও সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহিত করতেই এই অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি একটি ইতিবাচক কনটেন্ট সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রথম আয়োজনেই ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়মিতভাবে এ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।