যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার গতির ভয়াবহ বাতাস নিয়ে এটি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯০ কিলোমিটার গতির বাতাস এবং ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়ার শক্তি নিয়ে দ্বীপাঞ্চল অতিক্রম করছে। এর ফলে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডব্লিউএস একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ ঝড় হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমান ধ্বংসক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) এই ঝড়কে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস থাকলে কোনো টাইফুনকে সুপার টাইফুন বলা হয়।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, রোটার উত্তরে অবস্থিত সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সুপার টাইফুন ‘মেয়াস’–এর প্রভাবে চীনের হাইনান প্রদেশেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-৪ বা ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫৭ বছরে এমন শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।