৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়রদের অপসারণের প্রেক্ষাপটে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতার আশঙ্কা থাকলেও ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বে পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় এসেছে দৃশ্যমান গতি।
২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা পৌর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করেন। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার, পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাত নির্মাণ, ফল বিক্রেতাদের জন্য পৌর ফল মার্কেট স্থাপন, যাত্রী ছাউনি এবং পাবলিক টয়লেট নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন।
পৌরসভার একাধিক কর্মচারী জানান, নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি নাগরিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজ করতে প্রশাসনিক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি অফিসের সেবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন সেবাগ্রহীতারা। তাদের ভাষ্য, দালাল বা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১৭০ টাকা ফি জমা দিয়ে সহজেই নামজারি (খারিজ) সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে যানজট নিরসনে সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, “সরকারের একজন সেবক হিসেবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই নাগরিক সেবা পান, সেটিই আমার মূল লক্ষ্য। জনস্বার্থে এই উন্নয়ন ও সেবার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা জানান, আগের তুলনায় পৌরসভা ও ভূমি অফিসে সেবার মান বেড়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সহজ সেবা প্রাপ্তিতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন।