সাত বছরেও শেষ হয়নি নেছারাবাদ মডেল মসজিদ নির্মাণ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

নেছারাবাদ প্রতিনিধি, ফরিদ আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ সাত বছরেও শেষ না হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। একাধিকবার ঠিকাদার পরিবর্তন ও সময়সীমা বাড়ানো হলেও প্রকল্পটি এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে উপজেলার কাঠের চরে তিনতলা বিশিষ্ট এই মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ইএফটিই-ইটিসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগে দরপত্র বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমানে কাজী মোশাররফ হোসেন নামের নতুন ঠিকাদারের অধীনে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত মসজিদের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলেও প্লাস্টার, টাইলস বসানো, রং ও ফিনিশিং এবং সংযোগ সড়কের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লি মো. সজিব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত লেগেছে। আরেক মুসল্লি মো. আলাউদ্দিন বলেন, দায়িত্বহীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল করা উচিত এবং চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

মসজিদ সংলগ্ন এলাকার এক কাঠ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এত দেরি কেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বর্তমান ঠিকাদার মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগাদা ও দুইবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারের জামানত বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।