ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবন’ দখলের দাবি করেছেন দলেরই একটি বিদ্রোহী অংশ। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তারা নতুন নেতৃত্বও ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল নেতা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই কার্যালয়ের ভেতরে থাকা পুরোনো ব্যানার খুলে ফেলা হয় এবং নতুন ব্যানার টাঙানো হয়, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক ও সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে রয়েছেন। তারা আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে উপস্থিত হয়ে তারাই মূল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ তাদের প্রাপ্য।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চের সামনে উপস্থিত হয়ে একই দাবি উপস্থাপন করেন তারা। এরপরই শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ফিরে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও আখতারুজ্জামান, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উপস্থিত থাকলেও বিদ্রোহীদের প্রবেশের পর তিনি ভবন ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
দখল নেওয়ার পর আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের এই নতুন দলে পরামর্শদাতা হিসেবে থাকবেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন কি না, তা নতুন কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।” এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় ক্ষমতা ও নেতৃত্ব নিয়ে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।