গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক অনিয়ম, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বে পরিষদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় চেয়ারম্যান বা সচিবকে পরিষদে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন সেবাপ্রার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদে কোনো বৈধ উদ্যোক্তা না থাকলেও রতন নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের কাজ করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা নন, তবুও চেয়ারম্যান ও সচিবের আইডি ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা তারা বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অনলাইনে বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনকে “অনলাইনে নেই” বলে নতুন করে নিবন্ধনের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী জানান, তার সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় এবং পরে তথ্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার নামেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পারঝনঝিয়া গ্রামের মহিউদ্দিন শেখ অভিযোগ করেন, তার মেয়ের নামে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ তার কাছ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। পরে ওই কার্ড অন্যত্র হস্তান্তর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মানসুরা নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, তার কাছ থেকেও ৩০ কেজি চালের কার্ডের জন্য ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার আশ্বাসে নুরজাহান নামের এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। শারমিন ও রফিকুল ইসলামও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে টানা পাঁচ দিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহম্মেদকে পাওয়া যায়নি।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার আইডি জোরপূর্বক ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান উদ্যোক্তার সহকারী রতন তার এবং চেয়ারম্যানের আইডি ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি আরও জানান, পরিষদে একজন মূল উদ্যোক্তা থাকলেও তিনি বর্তমানে পরিস্থিতির কারণে কাজ করছেন না।