জাবিতে গভীর রাতে র‍্যাগিং, হাতেনাতে ধরা ১২ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে গভীর রাতে খেলার মাঠে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে অভিযুক্তরা লিখিতভাবে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টা থেকে শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫৫তম ব্যাচের নবীনদের মাঠে ডেকে নেন। সেখানে তাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করানো, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা এবং ফরমাল পোশাকের নিয়ম শেখানোর অজুহাতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

একপর্যায়ে এক নবীন শিক্ষার্থী কৌশলে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতির কাছে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক অভিযোগ করেন, তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান দাবি করেন, এর আগেও কেন্দ্রীয় মাঠ, সেমিনার কক্ষ, ক্লাসরুমের করিডর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে চলাচল নিয়েও তাদের নিয়মিত হয়রানি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ১৩ জন শিক্ষার্থী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধির (সিআর) স্বাক্ষরিত লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তারা ১৩ জন নবীন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিং করেছেন।

অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থী হলেন—সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আবদুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান, কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করে তাদের লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।