চার নদ-নদীতে তীব্র ভাঙন, বন্যা নিয়ে দুঃসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

উজানের ঢল ও নদ-নদীর পানি ওঠানামার প্রভাবে কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়েছে। পাশাপাশি আরও হাজারো পরিবার শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি বলছে, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে বন্যা ও নদীভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার ৪০টি ভাঙনকবলিত পয়েন্টের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে কাজ চলছে। শনিবার (৪ জুলাই) পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি কমলেও তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, আবাদি জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন তাদের জীবনের স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবার পাঁচ থেকে দশবার পর্যন্ত বসতভিটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এবার ঘর হারালে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, কয়েক বছর ধরে দুধকুমারের ভাঙনে বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখন পুরো গ্রামই ঝুঁকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুল, হাট ও সীমান্ত এলাকার স্থাপনাও হুমকিতে পড়বে।

একই এলাকার শাহিনা বেগম বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির খুব কাছে চলে এসেছে। ঘর সরাচ্ছি, কিন্তু এরপর কোথায় যাব জানি না। আর কোনো জমিও নেই। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৭৪ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়ে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের কাজ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।