জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ’। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা পরিষদ (পুরাতন) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক নজরুলপ্রেমী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীরা জাতীয় কবির কালজয়ী গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। প্রাণবন্ত পরিবেশনায় পুরো মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে এবং দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও ন্যায়বিচারেরও প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন আজও সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা বিস্তারে ‘নজরুল বর্ষ’-এর মতো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় কবির আদর্শ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নজরুল বিষয়ক রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি আসাদুল হাবিব দুলু এবং উপস্থিত অতিথিরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।