লালপুর থানার তৎপরতায় ৩ দিন পর পরিবারে ফিরল পথভ্রষ্ট কিশোরী রুমা

লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি,শামসুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

নাটোরের লালপুর থানার মানবিক ও দায়িত্বশীল তৎপরতায় পথভ্রষ্ট এক কিশোরীকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন দিন তিন রাতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর ১৪ বছর বয়সী রুমা খাতুনের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে স্বজনদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সাকিবুল হাসান নামের এক ব্যক্তি লালপুর থানার ডিউটি অফিসারকে ফোন করে জানান যে, আব্দুলপুর রেলস্টেশন এলাকায় ১৪/১৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে একা ঘোরাফেরা করছে। খবর পেয়ে ডিউটি অফিসার বিষয়টি দ্রুত রাত্রিকালীন দায়িত্বে থাকা এএসআই শাহীনুর রহমানকে জানান।

পরে এএসআই শাহীনুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে নিরাপদ হেফাজতে রাখেন। একই সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কিশোরীটি অল্প বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তার নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সে জানায়, তার নাম রুমা খাতুন, পিতা ইসারত মোল্লা, বাড়ি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা এলাকায়। ভুলবশত ট্রেনে উঠে সে আব্দুলপুর রেলস্টেশনে নেমে পড়ে।

পরবর্তীতে লালপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে বোয়ালমারী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ভাই মো. সাখাওয়াত হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

অবশেষে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে রুমার ভাই থানায় উপস্থিত হলে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মো. ফজলুর রহমানের উপস্থিতিতে কিশোরী রুমা খাতুনকে তার ভাইয়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। একটি অসহায় কিশোরীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।”