পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিলকুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে একই গ্রামে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলকুলা গ্রামের এক সৌদি আরবপ্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মামুন (৩৪) ও জুয়েল (৩৫) হয়রানি করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রায়ই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা ও উঁকিঝুঁকি দিতেন।
মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী ঘরের বাইরে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল তার মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার মাকে জানালে তিনি আতাইকুলা থানায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বুধবার (১ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত মামুনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে অপর অভিযুক্ত জুয়েলের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত দুজনই বিলকুলা গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মামুন দুই সন্তানের জনক এবং জুয়েল তিন সন্তানের বাবা। এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।