দেশে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও কানাডা থেকে মোট ৭৫ হাজার টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)। এ দুই চালান আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৯তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকার জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দিতে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এ সার আমদানি করবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডইনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে আনুমানিক ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের অপর একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে আরও ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই দরে, অর্থাৎ প্রতি মেট্রিক টন ৩৮০ মার্কিন ডলারে এ সার কেনা হবে। এ চালান আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৮৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।
দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে মোট ৭৫ হাজার টন এমওপি সার দেশে আমদানি করা হবে। সরকারের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আসন্ন চাষাবাদ মৌসুমে সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় থাকবে এবং কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো সার আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মৌসুমি চাহিদা মোকাবিলায় কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।