আসছে ডিজিটাল আইডি, মিলবে যেসব সেবা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

দেশে নাগরিক সেবা ব্যবস্থাকে একীভূত ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গঠনের কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এই উদ্যোগের আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের ভিত্তিতে সহজ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। এ আইডির মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা একক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। ফলে নাগরিকদের আলাদা আলাদা দপ্তরে গিয়ে বারবার তথ্য জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণার ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজ একীভূত একটি প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।

প্রকল্প অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন সিস্টেমে যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের এনআইডির সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা প্রক্রিয়া থাকবে।

এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও প্রয়োজনীয় সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। এটি সরকারি সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং বিভিন্ন কাজে ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাগরিকের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো ব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স) প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।