“আজীবন বিএনপি করে মরতে চাই”—এমন ঘোষণা দিয়েছেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন এবং ভবিষ্যতে আজীবন দলটির রাজনীতিতে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে আলী আহম্মেদ দুলু বলেন, দুইবার তাকে জোরপূর্বক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত করা হয়েছে এবং তিনি নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের পাশে থেকেছেন।
তিনি বলেন, “আমি অরিজিনালি বিএনপির লোক। ছোটবেলা থেকে ছাত্রদল করেছি। গত ফেব্রুয়ারিতে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতির মাধ্যমে আমি আবার বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। এখন আমি আমার ঘরে ফিরে এসেছি।” তিনি আরও জানান, বিএনপিতে ফিরে এসে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হতে চান এবং ভবিষ্যতে দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখবেন।
তবে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, আলী আহম্মেদ দুলু অতীতে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে ২০০৯ সালের পর তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দলীয় পরিচয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে দলীয় পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা গ্রহণ করেছেন। জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও অনেকে এটিকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে মন্তব্য করছেন।