মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে নিখোঁজের ৫০ দিন পর এক আলু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বসতবাড়ির পাশের একটি গবাদিপশুর ফার্মের রান্নাঘরের মেঝের নিচে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী বেগম পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। পুলিশ জানায়, গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন আলু ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন (৬০)। এ ঘটনায় ২৩ মে তার ভাই আব্দুল আউয়াল শেখ সিরাজদিখান থানায় অপহরণ মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে ৩১ মে নিহতের স্ত্রীর ভগ্নীপতি ও প্রধান সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন মানিককে আটক করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজদিখানের চাইনপাড়া এলাকা থেকে রিপন মিয়া (৩৪) ও বিন আমিন শেখ (৩৫) নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামে নিহতের বাড়ির পাশের একটি গবাদিপশুর ফার্মের রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে প্রায় ১০ ফুট নিচ থেকে আওলাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, আওলাদ হোসেন দুইবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী বেগম তাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় রাণী বেগম সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত রাণী বেগমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।